পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের জনসভা থেকে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে জানান, বাংলার মাটি কখনও বাইরের শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।
কয়েকদিন আগে অমিত শাহর করা মন্তব্যের পাল্টা দিতেই এদিন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নামেন অভিষেক। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বলেছেন তৃণমূলের কর্মীরা ২৩ তারিখ ভোট দিতে বেরোবেন না। আমি বলছি, মনে রাখবেন এই পশ্চিম মেদিনীপুর বিপ্লবীদের মাটি। গুজরাতি গুন্ডার কাছে বাংলা কোনওদিন আত্মসমর্পণ করে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এখানেই থেমে না থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, “যদি বাপের ব্যাটা হন আর বুকের পাটা থাকে, তবে ৪ জুন ফল ঘোষণার দিন কলকাতায় থাকবেন। দুপুর ১২টার পর দেখা হবে। কত বড় গুন্ডা আপনি আর কত আপনার ক্ষমতা, সেদিনই বুঝিয়ে দেব।” বিজেপির উদ্দেশ্যে তাঁর হুঁশিয়ারি, “যে খেলা তোমরা শুরু করেছ, শেষ তৃণমূল করবে।”
এদিন সবংয়ের এক তৃণমূল কর্মী সাথী ঘোড়ুই কুইলা ও তাঁর দুই বছরের সন্তানের ওপর নিগ্রহের ঘটনায়ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িত সাতজনের নাম তাঁর কাছে রয়েছে। “আমি কথা দিয়ে গেলাম, নামগুলো আমার মোবাইলে সেভ করা আছে। বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি, তাই হয়তো কেউ জামিন পেতে পারে। কিন্তু ৪ তারিখের পর যদি ওই সাতজনকে সাথী আর তাঁর শিশুকন্যার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য না করতে পারি, তবে আমার নামও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়,” এই মন্তব্যে তাঁর কড়া অবস্থান স্পষ্ট।
এছাড়াও বক্তব্যের মাঝে মধ্যপ্রদেশের একটি সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এক বিজেপি বিধায়কের ছেলের গাড়ি দুর্ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ওই রাজ্যে এমএলএ-র ছেলে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দম্ভের সঙ্গে বলছে, আমার বাবা বিধায়ক, আমাকে বাঁচিয়ে নেবে। এটাই বিজেপি শাসিত রাজ্যের বাস্তব চিত্র।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষণ তৃণমূলের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের কাছে শক্ত বার্তা দিতে চাইছেন।
সব মিলিয়ে, সবংয়ের জনসভা থেকে অভিষেকের এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার, এই চ্যালেঞ্জের জবাব কীভাবে দেয় বিজেপি এবং তার প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে।





