বাঁকুড়া, ১৪ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তারকা প্রচারের উপর ভর করে সংগঠন শক্ত করার কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সেই পরিকল্পনাই শেষপর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়াল ইন্দাসে। বিজেপি প্রার্থী নির্মলকুমার ধাড়ার সমর্থনে প্রচারে এসে আকুইতে রোড শো করলেও সাহসপুর বাজারে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামলেন না মিঠুন চক্রবর্তী। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মী-সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ।
সোমবার দুপুরে আকুইয়ের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেখান থেকে হুডখোলা গাড়িতে প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রোড শো শুরু হয়। প্রথমদিকে জনতার মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু আগে থেকে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী সাহসপুর বাজারে পৌঁছে রোড শো করার কথা থাকলেও, অভিযোগ তিনি গাড়ি থেকে নামেননি।
সাহসপুর বাজারে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমেছিল। কেউ এসেছিলেন বিজেপির সমর্থনে, আবার কেউ শুধুই ‘মহাগুরু’-কে একঝলক দেখার আশায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তাঁকে সামনে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় অনেককে। ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি স্থানীয়রা। এক কর্মীর কথায়, “দেখাবেন না যদি, তবে এলেন কেন?” এই প্রশ্নেই কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে গেরুয়া শিবির।
ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন প্রার্থী নির্মলকুমার ধাড়া। তাঁর দাবি, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তীর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর গাড়ি থেকে নামতে পারেননি। বিশেষ করে পায়ে ব্যথার সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেকেই। তাঁদের মতে, আগে থেকেই যখন বড়সড় রোড শোর পরিকল্পনা ছিল, তখন এই পরিস্থিতি কেন তৈরি হল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিজেপির সংগঠনগত দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। শুধুমাত্র তারকা মুখের উপর নির্ভর করে ভোটের সমীকরণ বদলানো যায় না, ইন্দাসের এই ঘটনা তারই উদাহরণ। স্থানীয় ইস্যুতে জনসংযোগের বদলে তারকা নির্ভর প্রচার উল্টে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, আকুই থেকে সাহসপুর পর্যন্ত মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও, তা মাঝপথেই শেষ হয়ে যায় সিধু-কানু মূর্তি চত্বরে। ফলে যে প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশার চিত্রই সামনে তুলে ধরল। ভোটের আগে এই ঘটনায় বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি বেড়েছে বলে সূত্রের খবর। এখন দেখার, এই ঘটনার প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে কতটা পড়ে।





