মনিরুল হক, কোচবিহারঃ হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপরই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এসআইআর। এই আবহে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে দলের প্রার্থীদের সক্রিয়তা চোখে পড়লেও, তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি এমনটাই দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার শহর থেকে গ্রামে নিবিড় প্রচার চালাতে দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক-কে। এদিন তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার চান্দামারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে বুথে বুথে ঘুরে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিটি বুথে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমর্থন প্রার্থনা করেন।
প্রচার চলাকালীন প্রার্থী দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। জয়ী হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা আজ চান্দামারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছে পৌঁছেছি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, ভোট চেয়েছি। মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করবেন বলেই আশা করছি। নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যাবে।”
তিনি আরও জানান, চান্দামারি অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিমধ্যেই একাধিক কাজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আকড়ারহাট-গোসানিমারি রোডকে তিনি এই এলাকার ‘প্রাণকেন্দ্র’ বলে উল্লেখ করেন। ওই সড়কের উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তা পেভার ব্লক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান। বাজার সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, গ্রামীণ বুথগুলির মধ্যে যেসব এলাকায় এখনও উন্নয়ন হয়নি, সেগুলিকেও অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চান্দামারি অঞ্চলে মোট ১৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন রয়েছে এবং মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। গত লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপি পেয়েছিল ৬৬৮০ ভোট, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৮৩৪২ ভোট। অর্থাৎ, তৃণমূল ১৯৬২ ভোটে এগিয়ে ছিল।
তবে এবারের পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ১০৬৮ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তৃণমূলের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ২০০টি পরিবার তাদের দলে যোগদান করেছে, যার ফলে সংগঠনের শক্তি আরও বেড়েছে।
এই প্রসঙ্গে চান্দামারি অঞ্চলের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি শিবু বর্মণ দাবি করে বলেন, “এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকেই অন্তত ৩৫০০ ভোটে বিজেপিকে পরাজিত করা হবে।” তাঁর মতে, মানুষের সমর্থন এবং সংগঠনের জোরেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
সব মিলিয়ে, এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভায় এখন জোরদার প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে পুরোদমে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এখন দেখার, ভোটের বাক্সে শেষ হাসি হাসে কোন দল।





