নন্দীগ্রাম, ৭ এপ্রিলঃ বঙ্গভোটের ময়দানে আবারও ‘হাইভোল্টেজ’ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা। এবার এই কেন্দ্রে এক বিরল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে একই নামে দুই প্রার্থী, দুজনেই শুভেন্দু অধিকারী। ফলে ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
একদিকে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী, যিনি কাঁথির প্রবীণ নেতা শিশির অধিকারী-র পুত্র। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন কলকাতার গড়ফা এলাকার বাসিন্দা আরেক শুভেন্দু অধিকারী, যিনি রাজনৈতিকভাবে একেবারেই নতুন মুখ। একই নাম হওয়ায় ভোটে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
নন্দীগ্রাম এমনিতেই জমি রক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস বহন করে এবং রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। সেই কারণে প্রতিটি নির্বাচনে এই কেন্দ্র ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা থাকে। এবারে সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে যখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ নেতা পবিত্র করকে প্রার্থী করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁকে দলভুক্ত করার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দল প্রার্থী হিসেবে আরেক শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, তাঁকে ‘ড্যামি প্রার্থী’ হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপির ভোটে প্রভাব ফেলতে চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। যদিও জেলা ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্ব এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আবারও নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে। দুই শুভেন্দুর লড়াই, নতুন প্রার্থী এবং পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রে এবারও হতে চলেছে তুমুল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।





