খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ মার্চঃ সংসদে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলগুলি নিয়ে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। কমিটির পক্ষ থেকে আরও সময় চাওয়া হলে তা মঞ্জুর করেছে লোকসভা। জানা গিয়েছে, রিপোর্ট পেশের জন্য আগামী বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,গত বছর আগস্টে নরেন্দ্র মোদী সরকারের তরফে এই বিলগুলি সংসদে আনা হয়। বিল অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি গুরুতর অপরাধে (যার শাস্তি পাঁচ বছরের বেশি) গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন জেলে থাকলে তাঁর পদ খোয়াতে হতে পারে। এই প্রস্তাব সংসদে পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিলগুলি পেশ হওয়ার পরই তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য জেপিসিতে পাঠানো হয়। এই কমিটিতে মোট ৩১ জন সাংসদ রয়েছেন লোকসভা থেকে ২১ জন এবং রাজ্যসভা থেকে ১০ জন। সংখ্যার বিচারে কমিটিতে সরকার পক্ষেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ফলে বিল পাশের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শুরু থেকেই এই বিল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এই বিল গণতন্ত্রবিরোধী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে সরকারকে অস্থির করে তোলার সুযোগ পাবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহার করা হতে পারে।
অন্যদিকে, সরকার পক্ষের যুক্তি, এই বিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় থাকার প্রশ্নে একটি স্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হবে।
বর্তমানে জেপিসির রিপোর্ট বিলম্বিত হওয়ায় বিলগুলির ভবিষ্যৎ কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিল নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সহজ নয়। ফলে আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও বিতর্ক ও আলোচনা বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে দেরি হওয়ায় সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন নজর জেপিসির চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে।





