নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চঃ ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ আয়োজন করতে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল. মুরুগান। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মালা রায়-এর প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে।গত ১৬ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সম্মেলনটি আয়োজন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৬ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ব্যয় ৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই বিপুল খরচের পাশাপাশি সম্মেলনটি ঘিরে একাধিক বিতর্কও সামনে এসেছে।
সম্মেলন চলাকালীন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের একাংশের দাবি, আয়োজনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও একাধিক সমস্যা দেখা যায়। ফলে এত বড় বাজেটের সম্মেলন হওয়া সত্ত্বেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনীকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, অংশগ্রহণকারী গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় একটি চীনে তৈরি রোবো-কুকুরকে নিজেদের উদ্ভাবন হিসেবে প্রদর্শন করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রযুক্তি মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই এই অভিযোগ সঠিক হয়, তবে তা দেশের প্রযুক্তিগত সাফল্যের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলনে দেশীয় উদ্ভাবন ও গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে বিদেশি পণ্যকে ভারতীয় বলে তুলে ধরা অনুচিত। এতে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে ভুল বার্তা যেতে পারে।
এছাড়াও বিরোধীদের তরফে অভিযোগ, এই সম্মেলনটি প্রকৃত অর্থে প্রযুক্তি উন্নয়নের মঞ্চ না হয়ে বরং একটি ‘পিআর প্রদর্শনীতে’ পরিণত হয়েছিল। এত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও যদি এই ধরনের ত্রুটি সামনে আসে, তবে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ একদিকে যেমন ব্যয়ের নিরিখে বড় উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগের কারণে তা এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।





