খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পনগরী দুর্গাপুর ফের এক নৃশংস ঘটনায় উত্তাল। পাড়াতুতো নাবালিকা ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পরই সামনে আসে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযুক্তকে ধরে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর জখম অবস্থায় যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা একটি নাবালিকা, যিনি পরিবারের সঙ্গেই ওই এলাকায় থাকতেন। সম্প্রতি তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে পরিবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। চিকিৎসা পরীক্ষার পর জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানতে পেরে হতবাক হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের চাপে নাবালিকা জানায়, তার এক পাড়াতুতো মামা দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। অভিযুক্ত যুবক দুর্গাপুর নগর নিগমের অস্থায়ী সাফাই কর্মী হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ, শুধু এই নাবালিকাই নন, এলাকার আরও কয়েকজন মহিলা ও নাবালিকার সঙ্গেও তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করেনি পুলিশ।
ঘটনার কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। শুক্রবার সকালে অভিযুক্তকে এলাকায় দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে ফেলে। বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা ও বয়ান রেকর্ডের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে নাবালিকাদের নিরাপত্তা। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দোষীর কঠোর শাস্তি হোক।





