পূর্ব মেদিনীপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ মাছের গাড়ি থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্য মঞ্চে তোপ দাগলেন অশোক দিন্দা। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনার জেরে ময়না থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিধায়ককে নোটিস পাঠিয়ে থানায় তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ময়নায় অবস্থিত মৎস্য হাব রাজ্যের বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম। সেখান থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ, ওই এলাকায় আসা-যাওয়া করা মাছের গাড়ি থেকে নিয়মিত টাকা তোলে পুলিশ। সম্প্রতি বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশোক দিন্দা দাবি করেন, “মৎস্যজীবীদের গাড়ি থেকে যে হারে টাকা তোলা হচ্ছে, তার ভিডিও প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই স্কুটি নিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রত্যেক গাড়ি থেকে ১০০-২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তার ৫০ শতাংশ থানায় থাকছে, বাকি ৫০ শতাংশ এসপি নিচ্ছেন।” এমনকি ‘কালীঘাটে’ও টাকার ভাগ যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে পুলিশ প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে জানান, “ময়নার বিধায়কের একটি ভিডিও ক্লিপ আমাদের নজরে আসে, যেখানে এসপি-র বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে আইন মেনে নোটিস পাঠানো হয়েছে।” তাঁর কথায়, “আমরা সম্মানের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করি। চেয়ারকে এভাবে অপমান করা একটি বাজে প্রবণতা।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়েছে। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি হাজিরা দেননি। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, “অশোক দিন্দাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আসবেন বলে জানিয়েছেন, তবে কিছু সময় চেয়েছেন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধী দলের দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের আইনি পদক্ষেপ-সব মিলিয়ে ময়নায় রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে।





