খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারিঃ মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত দয়ানগর–কুঠিবাড়ি আমবাগান এলাকায় একই পরিবারের চার জনের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্ত্রী ও দুই নাবালিকা কন্যাকে খুন করার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন পরিবারের কর্তা মানিক ব্যাপারী। বুধবার সকালে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মানিক ব্যাপারী পেশায় ফল বিক্রেতা ছিলেন। তাঁর বাড়ি নদিয়া জেলায় হলেও গত কয়েক বছর ধরে তিনি ভগবানগোলায় বসবাস করছিলেন। প্রায় দশ মাস আগে হায়দার আলি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দয়ানগর-কুঠিবাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্ত্রী দোলাদেবী ও দুই কন্যাকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন। স্বপনগড় মোড়ের কাছে তাঁর ফলের দোকান ছিল,যা স্থানীয়দের মতে ভালোই চলত। আর্থিক অনটনের তেমন প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্প্রতি মানিক ব্যাপারী ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। নতুন ধর্মাচরণ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতানৈক্য চলছিল বলে অভিযোগ। স্ত্রী দোলাদেবী এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি এবং দুই মেয়েও মায়ের পক্ষেই ছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে মেঝেতে রক্তের দাগ এবং কম্বল চাপা দেওয়া অবস্থায় স্ত্রী ও দুই কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার করে। তিনজনের গলাতেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। একই ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় মানিককে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে খুন করার পর দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় আত্মঘাতী হন মানিক ব্যাপারী। দেহগুলিতে পচন ধরতে শুরু করেছিল, ফলে মৃত্যুর সময় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। চারটি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পিছনে প্রকৃত কারণ জানতে সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





