খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ জানুয়ারিঃ উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে এক গৃহস্থালির অন্দরমহলের ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মদ্যপ স্বামীকে শায়েস্তা করতে খাটে শুইয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে থানায় হাজির হন অভিযুক্ত ব্যক্তির মা, যিনি পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে খাটের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম প্রদীপ, তিনি আলিগড়ের হামিদপুর এলাকার বাসিন্দা। ভিডিওতে প্রদীপের মা এবং কয়েকজন স্থানীয় মহিলাকে দেখা যায়, যাঁরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁর হাতের বাঁধন খুলে দেন। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া বিবাদ চলছিল। স্ত্রীর অভিযোগ, প্রদীপ প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন এবং তখন শুধু পরিবারের সঙ্গেই নয়, প্রতিবেশীদের সঙ্গেও ঝগড়াঝাঁটিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই কারণেই তাঁকে ‘শাসন’ করতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের।
তবে পুরো ঘটনার অন্য দিক তুলে ধরেছেন প্রদীপের মা। তিনি থানায় এসে অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে নয়, বরং পুত্রবধূই বাড়িতে অত্যাচার চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, “আমার ছেলে প্রদীপকে ওর স্ত্রী মারধর করে। বউমার কাছে একটা পিস্তল আছে, যা দিয়ে সে প্রায়ই খুনের হুমকি দেয়।” তিনি আরও জানান, গোটা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও সেই পিস্তল উদ্ধার করা যায়নি।
অভিযুক্ত গৃহবধূর নাম সোনি। তিনি রসুলপুরের বাসিন্দা। চার বছর আগে প্রদীপের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শাশুড়ির অভিযোগ, গত দু’বছর ধরে পুত্রবধূ তাঁদের পরিবারের উপর লাগাতার মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এ নিয়ে আগেও পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
ভাইরাল ভিডিও সামনে আসার পর স্থানীয় টাপ্পল থানা সক্রিয় হয়। পুলিশ প্রদীপের স্ত্রী সোনিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে অভিযুক্তের কাছে আদৌ কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল কি না, থাকলে তা কোথায় গেল এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও একতরফা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে না। এই ঘটনায় পারিবারিক বিবাদ, নির্যাতন ও বেআইনি অস্ত্র সব দিক খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





