খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ জানুয়ারিঃ অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। বিরিয়ানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই হত্যাকাণ্ডে তাকে সরাসরি সাহায্য করেছে তার প্রেমিক এমনই অভিযোগ পুলিশের। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্ত্রী লক্ষ্মী মাধুরী এবং তার প্রেমিক গোপীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম লোকম শিবা নাগরাজু। তিনি পেশায় একজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ছিলেন। বাইরে থেকে দেখলে তাঁদের সংসার ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। তবে গত কয়েক বছর ধরে দাম্পত্য জীবনে ব্যাপক অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এলাকার এক যুবক গোপীর সঙ্গে লক্ষ্মী মাধুরীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝেমধ্যেই গোপী তাঁদের বাড়িতে আসত বলে সন্দেহ করেন নাগরাজু। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় তীব্র কলহ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, স্ত্রী ও প্রেমিককে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করছিলেন নাগরাজু। তিনি কড়া নজরদারি শুরু করেছিলেন। এই বিষয়টি লক্ষ্মী মাধুরী বুঝে ফেলেন বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। এরপর থেকেই স্বামীকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই পরিকল্পনায় পূর্ণ সহযোগিতা করে প্রেমিক গোপী।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘটনার রাতে লক্ষ্মী নিজেই স্বামীর জন্য বিরিয়ানি রান্না করেন। সেই বিরিয়ানিতে ২০টিরও বেশি ঘুমের ওষুধ মেশানো হয় বলে পুলিশের দাবি। বিরিয়ানি খাওয়ার পর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন নাগরাজু। এরপর ঘরে প্রেমিক গোপীকে ডেকে নেন লক্ষ্মী। দু’জনে মিলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে নাগরাজুকে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেই গোপী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, খুনের পর রাতভর মৃত স্বামীর দেহের পাশেই বসে পর্নোগ্রাফি ভিডিও দেখেন লক্ষ্মী মাধুরী। পরদিন সকালে স্থানীয়দের জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নাগরাজুর দেহে অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরা বিষয়টি পুলিশে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। লক্ষ্মী ও গোপীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। দফায় দফায় জেরায় দু’জনেই খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে। এই ঘটনায় গোটা গুন্টুর জুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





