শিলিগুড়ি, ২২ জানুয়ারিঃ শিলিগুড়িতে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল দার্জিলিং জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে যুব তৃণমূলের নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় শঙ্কর ঘোষের অনশনকে “নির্বাচনের আগে পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক” বলে আক্রমণ করেন। তাঁদের দাবি, ভোটের মুখে সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যেই এই অনশন কর্মসূচি, যা আদতে “নেকা কান্না” ছাড়া কিছু নয়।
যুব তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, প্রায় পাঁচ বছর ধরে শিলিগুড়ির বিধায়ক থাকার পর হঠাৎ নির্বাচনের মাত্র দু’মাস আগে উন্নয়নে বাধার অভিযোগ তুলে অনশনে বসা অত্যন্ত হতাশাজনক ও লজ্জাজনক। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই রাজ্য সরকারের তরফে উন্নয়নের পথে এত বাধা থাকত, তাহলে গত চার বছর দশ মাস ধরে তিনি কী করছিলেন? কেন এতদিন শিলিগুড়ি শহরের মানুষের পাশে তাঁকে দেখা যায়নি?
সাংবাদিক বৈঠকে আরও অভিযোগ করা হয়, শঙ্কর ঘোষকে প্রায়শই কলকাতা, রায়গঞ্জ, কোচবিহার-সহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও শিলিগুড়ি শহরে তাঁর উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। শিলিগুড়ির সাধারণ নাগরিকদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্ন তুলছেন বলে দাবি যুব তৃণমূলের। কিন্তু এই বিষয়ে বিধায়কের তরফে কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ।
যুব তৃণমূল নেতৃত্ব আরও জানান, শঙ্কর ঘোষ এখনও পর্যন্ত কোনও শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারেননি। কীভাবে রাজ্য সরকার তাঁর উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিচ্ছে, তার নির্দিষ্ট প্রমাণও তিনি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি। একই এলাকায় অন্যান্য বিধায়ক ও দীর্ঘদিনের সাংসদরা উন্নয়নের কাজ করে চলেছেন, সেখানে শুধুমাত্র শঙ্কর ঘোষই কেন কাজ করতে না পারার অভিযোগ করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
পাশাপাশি যুব তৃণমূল শিলিগুড়ি পুরনিগম ও মহানাগরিকের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে শিলিগুড়ি শহর নতুন রূপ পেয়েছে। এই উন্নয়নের স্রোতের বাইরে থেকেই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন শঙ্কর ঘোষ এমনটাই অভিযোগ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের।





