কলকাতা, ২১ অক্টোবরঃ বিসর্জনের বাদ্যি বাজছে। সিঁদুরখেলার রং মুছে এবার উমাকে বিদায় জানানোর পালা। কিন্তু উৎসবের শেষ লগ্নে কোনও বিপর্যয় আর নয়। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনে বাড়তি সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। দশমীর সকালে কলকাতার বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তা ও নিরঞ্জনের নিয়ম নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, শাস্ত্রীয় বিধি ও পরম্পরা মেনেই হবে বিসর্জন। কোনও ভাবেই নিয়মের ব্যতিক্রম বরদাস্ত করা হবে না।
নবমীর রাত থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ঘাটে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বুধবার সকালে বাজে কদমতলা ঘাটে পৌঁছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘুরে দেখেন নিরঞ্জনের সামগ্রিক ব্যবস্থা। চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণহানির পর বিসর্জনের ভিড় সামলানো এবং দুর্ঘটনা এড়ানো নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। সেই কারণেই ঘাটে ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গঙ্গাদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর ক্রেন দিয়ে প্রতিমা তুলে নেওয়ার যে ব্যবস্থা ছিল, তা নিয়ে অনেকের আপত্তির কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই পদ্ধতিতে বাঙালির আবেগে আঘাত লাগতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই এ বার প্রতিমা তোলার জন্য ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বিসর্জনের ঐতিহ্য ও মানুষের ধর্মীয় আবেগের মধ্যেও ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে প্রশাসন।
নিরাপত্তার প্রশ্নেও কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ রাজ্য। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) মোতায়েন রাখার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেও তাঁর বক্তব্য, বাড়তি সতর্কতার জন্য কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন। তারাতলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বাহিনীর দক্ষতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইছামতীতে বিসর্জন দেখতে টাকিতে ভিড় জমে প্রতি বছর। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় নৌকায় করে নিরঞ্জন দেখার প্রবণতা থাকায় এ বার বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও এনডিআরএফ মোতায়েন রাখার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিরঞ্জনে কারা অংশ নেবেন, প্রতিমা নিয়ে কোন পুজো কমিটি ঘাটে আসছে সেই তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিমা স্পর্শ করার অধিকার নিয়েও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই নির্দেশ ও মন্তব্য ঘিরে অবশ্য নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
উৎসবের শেষ দিনে প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই নিরাপদে বিসর্জন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উমাকে বিদায়। এখন দেখার, বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারির মধ্যে কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় নিরঞ্জন পর্ব।





