কলকাতা, ২১ অক্টোবরঃ পুজোর মরসুমে রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বামেদের বুকস্টল। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বইয়ের স্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপির দিকে। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ডা. সুভাষ সরকার। তাঁর দাবি, ৪ মে-র পর বিজেপিতে যোগ দেওয়া কিছু ‘অতি উৎসাহী’ লোক নিজেদের দলের কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়েই এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে এই কাজের সঙ্গে ‘প্রকৃত বিজেপি’র কোনও যোগ নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
পুজোর সময় বিভিন্ন এলাকায় বইয়ের স্টল বসিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও প্রকাশনা তুলে ধরে বামেরা। কিন্তু এবার সেই বুকস্টল ঘিরেই একের পর এক ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির লোকজনই পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালাচ্ছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করছে বিজেপি। হামলাকারীদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে পাল্টা দাবি করা হচ্ছে শাসকদলের তরফে।
দুর্গাপুরে পুজোর মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এই বিতর্কে মুখ খোলেন সুভাষ সরকার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “৪ তারিখের পর যারা বিজেপিতে এসেছে, তাদের মধ্যে কিছুজন অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে। নিজেদের বিজেপির কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়েই তারা এই ধরনের কাজ করছে। তবে এই ধরনের রীতিতে বিজেপি বিশ্বাস করে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রাক্তন সাংসদের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, নবমীর রাতেও বুকস্টলে হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে একটি বুকস্টল ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে শেরপুর-কালীবাড়ি মোড়ে বাম-বিজেপি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এক পুলিশ আধিকারিক জখম হন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি এবং উত্তর দিনাজপুরেও বামেদের বুকস্টলে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনাগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। একদিকে সিপিএমের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির দায় অস্বীকার এই দুইয়ের মাঝে সুভাষ সরকারের মন্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। তবে প্রতিটি ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা নির্দিষ্ট তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হওয়া সম্ভব।





