কোচবিহার, ২০ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, উৎসবের আনন্দ আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগ। তবে সেই চেনা পথে না হেঁটে এ বার স্বনির্ভরতার বার্তা দিলেন কোচবিহারের বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপা চক্রবর্তী। পুজোয় নতুন বস্ত্র বিতরণের পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চার জনের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন তিনি। লক্ষ্য, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া।
জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ডা. মধুমিতা দাস ও দেবনাথ হোন্ডার পক্ষ থেকে নতুন বস্ত্র বিতরণের জন্য দীপা চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু শুধু উৎসবের উপহার দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের উপকারের কথা ভাবেন তিনি। সেই ভাবনা থেকেই বস্ত্র বিতরণের বদলে সেলাই মেশিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডা. মধুমিতা দাস ও দেবনাথ হোন্ডার সহযোগিতায় তিনটি পরিবারের সদস্য এবং এক জন বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তির হাতে মোট চারটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
উৎসবের সময়ে নতুন পোশাক হাতে পেলে মুখে হাসি ফোটে ঠিকই। কিন্তু সেই আনন্দের মেয়াদ সীমিত। অন্য দিকে, সেলাই মেশিনের মতো কাজের সরঞ্জাম হাতে পেলে তা দিয়ে নিয়মিত উপার্জনের পথ তৈরি হতে পারে। সেই ভাবনাকেই গুরুত্ব দিয়েছে এই উদ্যোগ। সেলাইয়ের কাজ জানা থাকলে বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে উপকৃত ব্যক্তিরা নিজেদের বাড়িতে বসেই কাজ শুরু করতে পারবেন। স্থানীয় ভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিও সম্ভব হতে পারে।
সেলাই মেশিন পেয়ে খুশি উপভোক্তা পরিবারগুলি এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ওই ব্যক্তি। এই উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা। তাঁদের আশা, এই মেশিন কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে উপার্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
দীপা চক্রবর্তীর এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ডা. মধুমিতা দাস ও দেবনাথ হোন্ডা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপা চক্রবর্তী, রাজীব ঝা, হীরক কুমার দাস-সহ আরও অনেকে।
দুর্গাপুজোর আবহে এই উদ্যোগের মূল বার্তা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু সাময়িক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং তাঁদের নিজেদের উপার্জনের পথ খুঁজে পেতেও সহযোগিতা করা। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে চার জনের জীবনে সেই সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হল। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার ভাবনাকে যুক্ত করে এই উদ্যোগ নতুন করে গুরুত্ব দিল দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ধারণাকে।





