কোচবিহার, ২০ অক্টোবরঃ কলকাতার চোরবাগান এলাকার মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তখন সেই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠল কোচবিহারে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কোচবিহার শহরের বুধ বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে আইনুল হক নামে এক যুবককে আটক করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। চোরবাগান-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কোনও ঘটনার প্রকৃত তথ্য সামনে আসার আগেই তার নানা রকম ব্যাখ্যা, দাবি ও ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। তার মধ্যে সত্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মিশে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে। চোরবাগান-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে পুলিশের এই পদক্ষেপ সেই উদ্বেগকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, চোরবাগানের ঘটনা সংক্রান্ত কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে কিছু আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য। অভিযোগ, ওই যুবকও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়েছিলেন, যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর কোতোয়ালি থানার পুলিশ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তের অনলাইন কার্যকলাপ, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের উৎস খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। ওই পোস্টগুলি কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, কোথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট নয়।
সামাজিক মাধ্যম এখন খবর জানার অন্যতম দ্রুত মাধ্যম। কিন্তু যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষত কোনও সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে দায়িত্বজ্ঞানহীন পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। তাই কোনও খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
পুলিশের তরফে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং আদালতে তাঁকে পেশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
চোরবাগান-কাণ্ডের আবহে কোচবিহারে এই গ্রেফতারি বা আটকের ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, ডিজিটাল মাধ্যমে কোনও তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল থাকা কতটা জরুরি। কোনও সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে যাচাইহীন দাবি প্রচার না করা এবং সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করাই বিভ্রান্তি এড়ানোর অন্যতম উপায়।





