নিউ আলিপুর, ১৯ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। উৎসবের মরসুমে সেই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারদের সঙ্গেই এক পুলিশকর্মীর আচরণ ঘিরে ছড়াল বিতর্ক। দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরে সুরুচি সঙ্ঘের পুজোমণ্ডপের বাইরে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই শুরু হয় সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল অভিযুক্ত এএসআইকে।
ধৃতের নাম কবিরুল হাসান মোল্লা (৫০)। তিনি কলকাতা পুলিশের তৃতীয় সশস্ত্র ব্যাটালিয়নে এএসআই পদে কর্মরত। অভিযোগ, গত ১৭ অক্টোবর সুরুচি সঙ্ঘের মণ্ডপের বাইরে দায়িত্বে থাকা দুই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিয়ো রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। পরে এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কমলা রঙের টি-শার্ট পরা দুই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার রাস্তার ধারে চেয়ারে বসে রয়েছেন। তাঁদের পিছনে দাঁড়িয়ে এক উর্দিধারী পুলিশকর্মী। তাঁর আচরণ ঘিরেই আপত্তি উঠেছে। যদিও ভিডিয়োর কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য থেকে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়, তবে মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ করেছে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করছেন পুলিশকর্মীরা। তার মধ্যেই বাহিনীর এক সদস্যের বিরুদ্ধে মহিলা সহকর্মীকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তি বেড়েছে। পুলিশের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গিয়েছে।
আরজি কর-কাণ্ডের পর রাজ্যে নারী নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। সেই আবহে দায়িত্বপালনরত এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে পুলিশকর্মীর এমন আচরণের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
তবে ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া ছড়ালেও, অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নির্ধারণে তদন্তই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তি এখনও বাকি।





