কলকাতা, ১৯ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর আবহে যাদবপুর সুপার মার্কেটের সামনে ইন্ডিয়ান কফি হাউসের নীচে বইয়ের স্টল ঘিরে বিতর্ক। প্রায় ৪৯ বছর ধরে চলে আসা ওই স্টল উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল সিপিএমের এরিয়া কমিটি। আবেদনকারীর দাবি, পুজোর সময় মার্কসবাদী, প্রগতিশীল ও শিশুদের বই বিক্রির জন্য অস্থায়ী স্টল তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও স্টল সরানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে বিচারপতি পার্থ প্রতীম রায়ের এজলাসে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবেদনকারী রাজদীপ সরকারের অভিযোগ, চলতি বছরের দুর্গাপুজো উপলক্ষে ১৩ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অস্থায়ী বইয়ের স্টল চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই মতো প্রায় ২০ ফুট বাই ১৬ ফুটের একটি স্টল তৈরির উদ্যোগ করা হয়। সেখানে মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল সাহিত্যের পাশাপাশি শিশুদের বই বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল।
আবেদনে জানানো হয়েছে, স্টল তৈরির অনুমতি চেয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হয়। পরের দিন, অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর, যাদবপুর থানাকেও লিখিত ভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত পুরকর বাবদ ৩২০০ টাকা জমা দেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৮ অক্টোবর কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারকে ই-মেল করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি আবেদনকারীর।
কিন্তু এত কিছুর পরেও সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ। আবেদনকারীর দাবি, ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ এক ব্যক্তি নিজেকে কলকাতা পুরসভার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে পুলিশ বাহিনী ও বুলডোজার নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। বইয়ের স্টল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যাদবপুরের এই বইয়ের স্টল ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক পরিসর এবং পুজোর সময়ে অস্থায়ী স্টল চালানোর অনুমতির প্রশ্ন। প্রায় পাঁচ দশকের পুরনো বই বিক্রির উদ্যোগকে ঘিরে ওঠা অভিযোগে নতুন করে আইনি টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
তবে স্টল উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ এবং অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়গুলি এখনও আবেদনকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গিয়েছে। আদালতের শুনানির পর মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হতে পারে।





