শিলিগুড়ি, ১৯ অক্টোবরঃ সারা বছরের কাজের ব্যস্ততা, সময়ের অভাব আর একঘেয়ে রুটিনের বাইরে কয়েকটা দিন নিজেদের মতো করে বাঁচার সুযোগ। দুর্গাপুজো যেন সেই অবকাশই এনে দিয়েছে শিলিগুড়ির কদমতলা ক্যাম্পাসে। Embee Delight Welfare Society-র উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গোৎসব এখন শুধু পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সহকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
বিগত চার বছর ধরে এই সংস্থার উদ্যোগে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। এ বছর সরকারি স্বীকৃতি ও অনুদান পাওয়ায় পুজো উদ্যোক্তাদের উৎসাহ আরও বেড়েছে। ষষ্ঠীর দিন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন পুজোর উদ্বোধন করেন। তার পর থেকেই কদমতলা ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্যাপন। কর্মী থেকে শুরু করে তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, সারা বছর কাজের চাপে সহকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক জায়গায় বসে সময় কাটানোর সুযোগ খুব একটা মেলে না। কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিন দেখা হলেও ব্যক্তিগত পরিসরে একসঙ্গে আনন্দ করার অবকাশ সীমিত। দুর্গাপুজো সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে সকলকে কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছে। কাজের পরিচয়ের বাইরে একে অপরকে আরও ভালো করে জানার, সম্পর্ককে নিবিড় করার মঞ্চ হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।
পুজোর দিনগুলিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে নানা আনন্দের আয়োজন। সপ্তমীতে ধুনুচি নাচের মতো অনুষ্ঠানে উৎসবের রং আরও গাঢ় হয়েছে। একসঙ্গে প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে আনন্দের মুহূর্ত। অষ্টমীর পুণ্যতিথিতেও পুজোকে ঘিরে উৎসাহের খামতি নেই। সহকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আবহ।
আসলে দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে কেবল দেবী আরাধনার উৎসব নয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও উপলক্ষ। সেই চেনা ছবিই যেন ধরা পড়েছে Embee Delight Welfare Society-র পুজোয়। কর্মক্ষেত্রের গণ্ডি পেরিয়ে এই আয়োজন হয়ে উঠেছে মিলিত হওয়ার, হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক বিশেষ পরিসর।
প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। তবে উদ্যোক্তাদের আশা, পুজোর এই কয়েক দিনের আনন্দ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির রেশ থেকে যাবে সারা বছর। ব্যস্ত জীবনের মাঝে এমন আয়োজনই যে সম্পর্কের বাঁধন আরও মজবুত করে, কদমতলা ক্যাম্পাসের পুজো যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।





