কোচবিহার, ১৯ অক্টোবরঃ উৎসবের আবহে ভক্তি, আচার-অনুষ্ঠান আর প্রার্থনার মেলবন্ধন। মহাষ্টমীর সকালে কোচবিহারের ধর্মসভায় পুজো-অর্চনায় সামিল হলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। জনপ্রতিনিধির পরিচিতি ছাপিয়ে এ দিন তাঁকে দেখা গেল সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই পরিসরে দাঁড়িয়ে দেবীর আরাধনায় অংশ নিতে।
দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাষ্টমী। বাঙালির শারদোৎসবে এই দিনের আলাদা আবেগ ও তাৎপর্য রয়েছে। অঞ্জলি, কুমারী পুজো থেকে সন্ধিপুজো বিভিন্ন ধর্মীয় আচারকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের সমাগম হয়। কোচবিহারের ধর্মসভাও তার ব্যতিক্রম নয়। মহাষ্টমী উপলক্ষে সেখানে সকাল থেকেই নিয়ম-নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে চলছে পুজো-অর্চনা। পুজোর আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
এই পবিত্র দিনে ধর্মসভায় উপস্থিত হন রথীন্দ্র বসু। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের পাশাপাশি তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কও। মহাষ্টমীর পুজোয় অংশ নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেবীর আরাধনায় সামিল হন। ধর্মসভায় তাঁর উপস্থিতি পুজোর পরিবেশে আরও একটি মাত্রা যোগ করে। তবে এদিনের মূল আকর্ষণ ছিল মহাষ্টমীর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।
মহাষ্টমী মানেই পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে দেবীর কাছে প্রার্থনা নিবেদন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে দেবীর আরাধনার মধ্যে দিয়ে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা যায়। সেই আবহেই ধর্মসভায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পুজো ও সন্ধিপুজো। প্রতিটি আচার ঘিরে রয়েছে বাঙালির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক আবেগ।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক মিলনক্ষেত্রও। পুজোর কয়েকটি দিনে নানা পরিচয় ও পেশার মানুষ এক জায়গায় এসে মিলিত হন। আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং দেবীর কাছে প্রার্থনা জানানো সব মিলিয়ে উৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন। কোচবিহারের ধর্মসভায় মহাষ্টমীর আয়োজনেও সেই পরিচিত ছবি ধরা পড়েছে।
রথীন্দ্র বসুর উপস্থিতি ঘিরে এদিন ধর্মসভায় উৎসবের আবহের মধ্যেই বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়। পুজোর আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভক্তদের সমাগম এবং সম্মিলিত প্রার্থনায় মহাষ্টমীর দিনটি হয়ে ওঠে ধর্মীয় আবেগ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক মেলবন্ধন। কোচবিহারের শারদোৎসবের পরিসরে ধর্মসভার এই আয়োজনেও ফুটে ওঠে বাঙালির চিরাচরিত পুজোর ঐতিহ্য।





