নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: দুর্গাপুজো মানেই আলোর রোশনাই, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন আর উৎসবের উচ্ছ্বাস। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকের কাছেই সেই আনন্দে অবাধে সামিল হওয়া সহজ নয়। তাঁদের সেই বাধা কিছুটা সরিয়ে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে পুজো পরিক্রমায় সামিল হলেন তিনি। শুধু ঠাকুর দেখানো নয়, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে উৎসবের আনন্দও ভাগ করে নিলেন স্পিকার।
কোচবিহারে এই উদ্যোগ ঘিরে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের মধ্যে দেখা যায় খুশির আবহ। তাঁদের কাছে জনপ্রতিনিধির সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অন্য রকম। স্পিকার এ ভাবে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাবেন, পাশাপাশি বসে প্রতিমা দর্শন করবেন তা ভাবতে পারেননি অনেকেই। ফলে এ বারের পুজো তাঁদের কাছে হয়ে উঠল আরও স্মরণীয়।
পুজো পরিক্রমার পাশাপাশি তাঁদের জন্য দুপুরের আহারের ব্যবস্থাও করা হয়। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। অর্থাৎ, প্রতিমা দর্শনের আনন্দের সঙ্গে ছিল একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া এবং উৎসবের উপহার পাওয়ার উচ্ছ্বাসও। গোটা উদ্যোগে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের সঙ্গে আন্তরিক যোগাযোগ গড়ে তোলার দিকটিই নজর কেড়েছে।
দুর্গাপুজোকে ঘিরে শহরজুড়ে যখন আলোকসজ্জা আর মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়, তখন এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দিল উৎসবের আনন্দ সবার জন্য। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন কারও আনন্দের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই ভাবনা থেকেই এমন আয়োজনের গুরুত্ব আলাদা।
উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল নিজের আনন্দে মেতে থাকা নয়, অন্যের মুখেও হাসি ফোটানো। কোচবিহারে রথীন্দ্র বসুর এই পুজো পরিক্রমা সেই মানবিক বার্তাই সামনে আনল। প্রতিমা দর্শনের স্মৃতির পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের কাছে থেকে গেল একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ এবং সম্মান পাওয়ার অনুভূতি।





