নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: প্রতিদিনের যাতায়াতে ভরসা ছিল অটো, ছোট গাড়ি কিংবা ম্যাজিক। কখনও ভিড়ের চাপ, কখনও বেশি ভাড়া, আবার কখনও গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়ে বাড়তি সময়ের ঝক্কি। গোসানিমারি থেকে কোচবিহার যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হত বহু মানুষকে। এ বার সেই ছবিতে বদল আনার আশায় চালু হল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি) নতুন সরকারি বাস পরিষেবা। গোসানিমারি থেকে সাহেবের হাট হয়ে কোচবিহার পর্যন্ত এই বাস চালু হওয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা পাবেন এলাকার বাসিন্দারা।
শনিবার গোসানিমারিতে নতুন বাস পরিষেবার শুভ উদ্বোধন করেন দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়। উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে গোসানিমারি বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা মেটাতে সরকারি বাস পরিষেবা চালুর এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
গোসানিমারি ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষকে নানা প্রয়োজনে নিয়মিত কোচবিহার শহরে যেতে হয়। কারও গন্তব্য সরকারি দফতর, কারও আবার চিকিৎসার প্রয়োজন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজ। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে কর্মসূত্রে যাতায়াত করা মানুষ সকলের কাছেই পরিবহণের সহজলভ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন এই পথে যাতায়াতের জন্য মূলত ছোট গাড়ি, অটো ও ম্যাজিকের মতো বেসরকারি যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হত। এ বার সরকারি বাস চালু হওয়ায় সেই নির্ভরতা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মহিলা যাত্রী ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই পরিষেবা কতটা স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে, তা সময়ই বলবে। তবে নিয়মিত ও সুলভ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলে দৈনন্দিন জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। নতুন পরিষেবার উদ্বোধনের পর নিজেই কোচবিহারগামী বাসের প্রথম যাত্রী হন বিধায়ক অজয় রায়। তাঁর এই যাত্রা নতুন পরিষেবার সূচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
শুধু একটি বাস চালু হওয়া নয়, গোসানিমারি থেকে কোচবিহারের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিষেবাটি কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বাসের নিয়মিত চলাচল, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীদের চাহিদা পূরণের উপর। আপাতত নতুন সরকারি বাসকে ঘিরে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা দৈনন্দিন যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে, আর গন্তব্যে পৌঁছনো হবে আরও সহজ।




