নয়াদিল্লী, ১৫ অক্টোবরঃ জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ। আর সেই প্রতিবাদের জেরেই কি জেলে যেতে হবে আন্দোলনকারীদের? ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারিকে ঘিরে এই প্রশ্ন তুলেই ফের আন্দোলনের ডাক দিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর ঘোষণা, আগামী ১৬ অক্টোবর দিল্লিতে জাতীয় পতাকা হাতে পদযাত্রা করবেন সিজেপি সমর্থকেরা। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন শহরেও একই কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এ বার জাতীয় পতাকাকেই প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে সিজেপি।
বিতর্কের সূত্রপাত মঙ্গলবার। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে। পরে দু’জনকেই পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। পুলিশের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া জমায়েত, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি, শান্তি বজায় রাখার জন্য আগে যে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে সই করেছিলেন, তা-ও লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের এই অভিযোগ মানতে নারাজ সিজেপি নেতৃত্ব।
দুই নেতার গ্রেপ্তারির পরেই ক্ষোভ উগরে দেন দীপকে। সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, সিজেপি নেতাদের অপরাধ বলতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘হিম্মত থাকলে মোদিজি, এমার্জেন্সি ঘোষণা করুন।’
বুধবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর আহ্বান, আগামী ১৬ অক্টোবর বিকেল পাঁচটায় দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হোন দেশপ্রেমীরা। দীপকের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণ করা হবে, তেরঙ্গা হাতে প্রতিবাদ করা অপরাধ হতে পারে না। দিল্লিতে যাঁরা যেতে পারবেন না, তাঁদের নিজেদের শহরেই প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
নিজেও গ্রেপ্তার হতে পারেন, এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন দীপকে। তবে তাতে আন্দোলন থামবে না বলেই তাঁর বার্তা। অন্যদিকে, যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি ছিল না বলে পুলিশের দাবি। সিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, আদালতে ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
জাতীয় পতাকা, গ্রেপ্তারি এবং প্রতিবাদের অধিকার এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন নতুন করে উত্তপ্ত রাজধানীর রাজনীতি। ১৬ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কতটা সাড়া মেলে, নজর থাকবে সেদিকেই।




