নয়াদিল্লী, ১৫ অক্টোবরঃ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা কতটা যুক্তিযুক্ত? বিরোধীদের এই প্রশ্নেই এবার দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও যাবতীয় ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অন্য দিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিরোধীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছেও জবাব চাইল আদালত। ফলে প্রতিবাদে বিধিনিষেধ থেকে ভোটার তালিকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বৃহস্পতিবার চাপ বাড়ল কেন্দ্র ও কমিশনের উপর।
এসআইআর সংক্রান্ত তিনটি মামলার শুনানির সময়ই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ ওঠে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, যন্তর মন্তর নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হবে। কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাল্টা আবেদনকারীদের আইনজীবী মুক্তা গুপ্তর যুক্তি, প্রতিবাদের জায়গা এমন হওয়া উচিত, যেখানে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে।
আদালত জানতে চেয়েছে, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি সুপ্রিম কোর্টের মৌখিক মন্তব্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল, নাকি আলাদা মূল্যায়নের ভিত্তিতে? কেন্দ্রের বক্তব্য, সিদ্ধান্তটি আদালতের মন্তব্যের ভিত্তিতে নয়, বরং কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, বিক্ষোভের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে আদালত জানিয়েছে, প্রয়োজনে সেগুলি প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যাবে।
‘ককরোচ’দের বিক্ষোভ ঘিরে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় হলফনামা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কোনও চেষ্টা হয়নি বলে দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া আদালত অবমাননার নোটিস খারিজের আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাইসিনা হিলসের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৫৭টিতে প্রবেশ ও বেরোনোয় বিধিনিষেধ ছিল, পরে তা কমিয়ে ৪৫টি করা হয়। যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছিল। এ বিষয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও মহিলা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।
এদিকে, এসআইআর ও ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আবেদনের প্রেক্ষিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ তিন নির্বাচন কমিশনারের জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিবাদের অধিকার, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা সব মিলিয়ে একাধিক প্রশ্নে এখন শীর্ষ আদালতের নজরে কেন্দ্র, দিল্লি পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন।





