কলকাতা, ১৫ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে প্রবেশমূল্য বা এন্ট্রি পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আইনি চাপে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাঁর করা আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে দীর্ঘ শুনানির পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত একটি পৃথক মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন ইন্দ্রনীল। ফলে এক মামলায় স্বস্তি মিললেও অন্য মামলায় তাঁর আইনি লড়াই জারি রইল।
মামলার সূত্রপাত দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি ঘিরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে চড়া দামে পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তার ভিত্তিতে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলাতেই গ্রেপ্তারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল।
মামলাটি ঘিরে তদন্তও এগিয়েছে। অভিযোগের আর্থিক দিক খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর কয়েক জন আত্মীয়কে একাধিক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন নথিও খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ; আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়াকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখা যায় না।
অন্য দিকে, চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত পৃথক মামলায় ইন্দ্রনীলের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে হাই কোর্ট। ওই মামলায় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ইন্দ্রনীলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজ্যের আইনজীবী অবশ্য আদালতে দাবি করেন, সেই মামলায় ধ্রুবজ্যোতি বসু মূল অভিযুক্ত।
ইন্দ্রনীলের আগাম জামিন খারিজের নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল।
একই ব্যক্তিকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলায় আদালতের দুই ভিন্ন নির্দেশে তাই আইনি পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। পুজোর টিকিট বিক্রির অভিযোগে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন নজর সেদিকেই।





