মুর্শিদাবাদ, ১৫ অক্টোবরঃ বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে পাচার ও অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর দাবি, গরু পাচার ও মাদক পাচার এখন প্রায় বন্ধ। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে। বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশ একযোগে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের উদ্বোধনে গিয়ে শুধু নিরাপত্তার বার্তাই নয়, মুর্শিদাবাদ বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “এই বিধানসভা আমার দায়িত্ব।”
পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চকে কার্যত উন্নয়ন পর্যালোচনার মঞ্চে পরিণত করেন শুভেন্দু। এলাকার পরিকাঠামো নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিধানসভা এলাকায় আইটিআই কলেজ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও করেন। নতুন আইটিআই কলেজের জন্য জেলাশাসককে জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় কলেজে মেয়েদের জন্য পৃথক কলেজের ব্যবস্থা এবং মর্নিং কলেজ চালুর কথাও ঘোষণা করেন। তাঁর আশ্বাস, অধ্যাপকের অভাব হবে না।
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো এবং প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর কথা জানান তিনি। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থের অভাব হবে না বলেও আশ্বাস দেন। এই কাজগুলি ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। ফলে পুজোর আবহে লালবাগের বাসিন্দাদের সামনে উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন তিনি।
তবে উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা ও সামাজিক সমস্যাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। মুর্শিদাবাদকে নেশামুক্ত করার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গরু ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ চলার কথাও জানান তিনি। এলাকার পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিকাঠামোর উন্নতি হলে পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিন বাল্যবিবাহ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ বলেও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর উদ্বোধন ঘিরে লালবাগে এ দিনের কর্মসূচিতে তাই উঠে এল দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় উন্নয়ন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর মুর্শিদাবাদের বাসিন্দাদের।





