নয়াদিল্লী, ১২ অক্টোবরঃ সোশাল মিডিয়ায় তাঁর ভিডিয়ো দেখেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কখনও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, কখনও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও যুক্তি সাজিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ধ্রুব রাঠি। তাঁর সমালোচনায় যেমন অনেকে সুর মেলান, তেমনই তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতাও করেন অনেকে। কারও চোখে তিনি স্বাধীন কণ্ঠস্বর, আবার কারও মতে, বিদেশে বসে ভারতের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করার মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিতর্কের আবহেই এ বার দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ধ্রুব।
সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জার্মানি থেকে ভারতে আসেন ধ্রুব। অভিযোগ, কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। সেই বৈঠকেই স্বাভাবিক ভাবে উঠে আসে প্রশ্ন এবার কি সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিতে চলেছেন তিনি?
ধ্রুবর উত্তর অবশ্য স্পষ্ট। এখনই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর কোনও নির্দিষ্ট ইস্যু বা মতের মিল থাকতেই পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তিনি সেই দলের সদস্য হয়ে যাবেন। প্রতিবাদে যোগ দেওয়া আর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করা যে এক বিষয় নয়, নিজের বক্তব্যে সেই পার্থক্যই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
শনিবারের আন্দোলনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কারও কাছ থেকে রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ধ্রুব জানিয়েছেন, এখনও তেমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। যে দলের কর্মসূচিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন, সেই দলের সঙ্গেও তাঁর কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিদেশে বসবাস করলেও নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধ্রুবর বক্তব্য, দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ, আপাতত রাজনৈতিক দলের পতাকার নীচে নয়, নিজের মতামত ও নাগরিক অবস্থান থেকেই সরব থাকতে চান তিনি।
তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত উড়িয়ে দিলেও ধ্রুবকে ঘিরে বিতর্ক যে থামছে না, তা স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হোন বা না-ই হোন, দেশের রাজনীতিতে সোশাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা বেড়েছে, ধ্রুব রাঠিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যেন আরও এক বার সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিল।





