কেরল, ১২ অক্টোবরঃ তিনটি প্রাণ ঝরে গিয়েছে। অথচ তাতেও অনুশোচনার লেশ নেই! বরং পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত তরুণের দাবি, “আমার বাবা ব্যাপারটা সামলে নেবেন।” কেরলের কোচিতে গভীর রাতে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তিন বাইক আরোহীর মৃত্যুর পর এমনই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দ্রুতগতির একটি মিনি কুপারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক ও দুই তরুণী। দুর্ঘটনার পর ১৯ বছরের গাড়িচালককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর কথাবার্তা ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কোচি বিমানবন্দরের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইজাজ নামে এক যুবক বাইক চালাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গোপিকা ও দেবিকা নামে দুই তরুণী। তিন জনেরই বয়স ২১ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন বলে খবর।
অভিযোগ, পিছন থেকে দ্রুতগতিতে এসে তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে একটি মিনি কুপার। ধাক্কার অভিঘাতে বাইক থেকে ছিটকে পড়েন তিন জন। বাইকটিকে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় গাড়িটি বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তিন জনেরই মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক সুহেল সজীবকে আটক করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, গাড়ি চালানোর আগে একটি পানশালায় মদ্যপান করেছিলেন ওই তরুণ। মত্ত অবস্থায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ, তিন জনের মৃত্যুর পরেও অনুশোচনা প্রকাশ না করে ওই তরুণ প্রশ্ন করেন, “রাস্তা কেন বানানো হয়েছে? গাড়ি চালানোর জন্যই তো?” পাশাপাশি, তাঁর বাবা বিষয়টি সামলে নেবেন বলেও দাবি করেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে অভিযুক্তকে ঘিরে স্থানীয়দের বিক্ষোভ দেখানোর দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে দাবি।
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে কেরল সরকার। রাজ্যের আবগারি মন্ত্রী পানশালাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কমবয়সিদের কাছে বেআইনিভাবে মদ বিক্রির ঘটনা সামনে এলে কঠোর পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। তদন্তে এখন নজর, দুর্ঘটনার আগে চালক মদ্যপান করেছিলেন কি না এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনটি প্রাণ ঝরল।





