কলকাতা, ৯ অক্টোবরঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের সামনে এল সেমিনার রুম ভাঙা ও সংস্কারকে ঘিরে বিতর্ক। সেই নির্দেশের নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানালেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্তের আওতায় আসতে পারে পূর্ত দফতরের ভূমিকাও।
শুক্রবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নবম ‘মেডিভিশন ন্যাশনাল কনভেনশন’-এর মঞ্চে এই প্রসঙ্গ তোলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের স্থান, সেমিনার রুম এবং সংলগ্ন বাথরুমে রাতারাতি ভাঙচুর ও সংস্কারের কাজ হয়েছিল। কার নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচিবের ভূমিকা নিয়েও সরব হন রত্না।
তাঁর বক্তব্য, যে জায়গায় তাঁর মেয়ের উপর নৃশংস অপরাধ ঘটেছিল, সেখানে সংস্কারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল, তার জবাব প্রয়োজন। অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যথাযথ তদন্ত না হলে ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রকাশ্য মঞ্চে এই অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সময় স্বাস্থ্যসচিব যদি ওই স্থান ভাঙা বা সংস্কারের নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে সেই সিদ্ধান্তের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
শুধু স্বাস্থ্য দফতর নয়, পূর্ত দফতরের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, সংস্কারের কাজে ওই দফতরের ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণ সংরক্ষণ, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এখন নজর থাকবে সেই দিকেই।




