কলকাতা, ৯ অক্টোবরঃ রাজ্য রাজনীতিতে দলবদল ঘিরে সংঘাতের আবহে বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে নতুন মোড়। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। দলত্যাগ বিরোধী আইনে দায়ের করা ওই পিটিশনে নথি যাচাইয়ের পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছে অধ্যক্ষের নির্দেশ। তবে এই সিদ্ধান্তে বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। বরং নিয়ম মেনে নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় রাজনৈতিক টানাপড়েন জারি থাকার সম্ভাবনা।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই মামলার শুনানি হয়। কালীঘাটের পক্ষে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, আখরুজ্জামান-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত জানান অধ্যক্ষ।
শুনানিতে ঋতব্রতদের আইনজীবীরা পিটিশনের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ১৯৮৬ সালের দলত্যাগ বিরোধী আইনের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নথিগুলি যাচাই করা হয়নি। অধ্যক্ষের নির্দেশেও সেই পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে স্বাক্ষর থাকলেও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানানো হয়। সেই কারণেই আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে।
তবে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে, সদস্যপদ খারিজের দাবি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় চাইলে নির্ধারিত বিধি মেনে নতুন করে পিটিশন জমা দিতে পারবেন। ফলে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের সম্ভাবনা থাকছেই।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। ‘মমতা তৃণমূল’-এর মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে অন্য দলে যাওয়া বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ হওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, বিধানসভার এই সিদ্ধান্তে আপাতত একটি আবেদন খারিজ হলেও দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রশ্নে রাজ্য রাজনীতির সংঘাত যে শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট।




