কলকাতা, ৭ অক্টোবরঃ এক দিনে তিন রাজ্য! বুধবার গুজরাট, বৃহস্পতিবার সকালে বিহার তার পর সেখান থেকে মালদহের মানিকচক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক জীবনের পূর্তি উপলক্ষে গুজরাটের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাহাড় সফর কাটছাঁট করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বাইরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর বৃহস্পতিবার তাঁর গন্তব্য মালদহের বন্যাকবলিত ভূতনি। ঠাসা কর্মসূচির মধ্যেই সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য একাধিক সরকারি সাহায্যের ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
কিছু দিন আগেই ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছিল মালদহের ভূতনি চর। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল ত্রাণশিবিরে। সেই পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই বৃহস্পতিবার মানিকচকে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে পুনর্বাসন ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা নিয়ে ঘোষণা হতে পারে। পুজোর আগে দুর্গত পরিবারগুলির জন্য বিশেষ উপহারের কথাও জানানো হতে পারে।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সফরও নির্ভর করছে আবহাওয়ার উপর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার রাতে গুজরাট থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিহারের পূর্ণিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা শুভেন্দুর। পূর্ণিয়ায় বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে মালদহের মানিকচকে পৌঁছনোর কথা।
আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বদলাতে পারে পরিকল্পনা। হেলিকপ্টার ওড়ানো সম্ভব না হলে পূর্ণিয়া থেকেই মানিকচকের সরকারি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকল্প হিসাবে সড়কপথেও মানিকচকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
আর যদি বুধবার গুজরাটেই রাত কাটান মুখ্যমন্ত্রী, সে ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার সেখান থেকেই সরাসরি পূর্ণিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে পূর্ণিয়া থেকে মানিকচক এবং সেখান থেকে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা।
মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে মালদহ জেলা প্রশাসন। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা, দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলা এবং পুজোর আগে সরকারি সাহায্যের ঘোষণা সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের মানিকচক সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত কোন পথে মানিকচকে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী এবং বন্যার্তদের জন্য কী কী ঘোষণা করেন।





