কলকাতা, ৭ অক্টোবরঃ দিল্লির পর এবার কলকাতার রাজপথেও ‘জ্ঞানেশ হটাও’ স্লোগান। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার লোকভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস। আর সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। লোকভবনের গেটের সামনে পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা, স্লোগান সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
কংগ্রেস কর্মীরা দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে লোকভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ গার্ডরেল দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। ব্যারিকেড সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করতেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একসময় কয়েক জন বিক্ষোভকারী রাস্তায় বসে এবং শুয়ে পড়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশের বাধার মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেপ্তারির দাবিতে সুর চড়ান তাঁরা।
এর পরেই বিক্ষোভকারীদের আটক করতে শুরু করে পুলিশ। একে একে কংগ্রেস কর্মীদের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। কাউকে চ্যাংদোলা করে, কাউকে ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে আরও ক্ষোভ ছড়ায় কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, কর্মসূচির অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের বাধা দিয়েছে।
এই বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি। একই দাবিতে মঙ্গলবার দিল্লিতেও পথে নেমেছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিযানের পর বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। পরে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থানে বসেন তাঁরা। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে আটক করা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
সেই আন্দোলনেরই রেশ এ বার কলকাতায়। বুধবার লোকভবনের সামনে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘাত আরও একবার সামনে আনল নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা। কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তির জবাব দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
দিল্লির পর কলকাতা ‘জ্ঞানেশ হটাও’ স্লোগানে বিরোধীদের আন্দোলন যে আপাতত থামছে না, বুধবারের ঘটনাই তার ইঙ্গিত। তবে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





