রেজিনগর, ৭ অক্টোবরঃ ভোট শেষ। ফল বেরোতে এখনও দু’দিন বাকি। তার মধ্যেই রেজিনগরে কার্যত রাজনৈতিক পরাজয় মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। এ বার একই পথে হাঁটার ঘোষণা তাঁর ছেলে, রেজিনগর উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিনের। বাবা-ছেলের পরপর এই ঘোষণায় প্রশ্ন উঠেছে তবে কি হুমায়ুনের তৈরি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত?
রেজিনগরে ভোটের দিন থেকেই উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি। ভোট লুট এবং পুলিশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন হুমায়ুন ও রবিন দু’জনেই। মঙ্গলবারের ভোটপর্বের পর বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে চোখে জল নিয়ে হুমায়ুন জানান, যত দিন শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন তিনি বিধানসভায় যাবেন না। প্রয়োজনে বিধায়ক পদ ছাড়ার পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন তিনি।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবার সুরে রাজনৈতিক ‘বিরতি’র ঘোষণা রবিনের। তাঁর সাফ কথা, ‘‘আমি আর এই নোংরা রাজনীতির অংশ হয়ে থাকতে চাই না।’’ তবে বাবার ঘোষণার সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। রবিনের দাবি, মঙ্গলবার রেজিনগরে যে ভাবে ভোট হয়েছে, তা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।
শুধু রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা নয়, ৯ অক্টোবর গণনার দিন গণনাকেন্দ্রে না যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন রবিন। তাঁর অভিযোগ, ছোট দলগুলিকে নিশানা করে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘‘আমি পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারব না। যেদিন মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, সেদিন আবার রাজনীতিতে ফেরার কথা ভাবব।’’
রবিনের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই সামনে এসেছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। তবে এখনই দল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না তিনি। কর্মীদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মতাদর্শগত লড়াই করা যায়, কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দিনের পর দিন যুদ্ধ করে টিকে থাকা কঠিন।
বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রবিন। আগে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বও সামলেছেন। এখন সেই রাজনৈতিক-প্রশাসনিক দায়িত্বেও তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রবিনের কথায়, আপাতত তিনি পরিবারকে সময় দিতে চান, ছোট মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চান।
অর্থাৎ, রেজিনগরের ফল ঘোষণার আগেই হুমায়ুনের পরিবারে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সুর। বাবা-ছেলের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোথায় নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর।





