কোচবিহার, ৬ অক্টোবরঃ ঢাকের বাদ্যি এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। মণ্ডপেও শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা চলছে। কিন্তু কোচবিহারের দেবীবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির ব্যস্ততা ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব আর বেশি দূরে নেই। হাতে গোনা কয়েক দিন পরেই শুরু হবে দুর্গোৎসব। আর সেই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বড় দেবীর আরাধনা।
কোচবিহারের দুর্গাপুজো বললেই রাজঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দেবীবাড়ির পুজোর কথা উঠে আসে। বছরের পর বছর ধরে এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, কোচবিহারের ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই পুজো দেখতে প্রতি বছরই দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ দেবীবাড়িতে ভিড় করেন।
তবে বড় দেবীর প্রতিমার বৈশিষ্ট্যেই রয়েছে সবচেয়ে বড় চমক। বাংলার প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমায় যেখানে দেবীর সঙ্গে থাকেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী, কোচবিহারের বড় দেবীর ক্ষেত্রে ছবিটা একেবারেই আলাদা। এখানে দেবীর দুই পাশে দেখা যায় জয়া ও বিজয়াকে। ফলে বড় দেবীর প্রতিমা দর্শনেই রয়েছে স্বতন্ত্র ঐতিহ্যের ছাপ।
প্রতিবারের মতো এ বারও বড় দেবীর পুজো ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। পুজোকে আরও সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে এ বার বাজেটও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দেবীবাড়ি মন্দির চত্বর এবং পুজোর যাবতীয় প্রস্তুতি ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনাতেও প্রস্তুতি চলছে।
বড় দেবীর পুজোর আকর্ষণ অবশ্য শুধু প্রতিমার বৈশিষ্ট্যে আটকে নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোচবিহারের রাজপরিবারের স্মৃতি, স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় আবেগ এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। তাই সময় বদলালেও এই পুজোর আবেদন কমেনি।
বরং প্রতি বছর পুজোর আগে দেবীবাড়িকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয় উৎসাহ। পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন আয়োজনের মেলবন্ধন দেখতে অপেক্ষায় শহরবাসী। আর কয়েক দিনের মধ্যেই যখন দেবীবাড়িতে শুরু হবে বড় দেবীর আরাধনা, তখন রাজঐতিহ্যের সেই পুরনো আবহে ফের ভাসবে কোচবিহার।





