কোচবিহার, ৬ অক্টোবরঃ ঐতিহ্যের শহর কোচবিহারের অন্যতম পরিচিত জলাশয় সাগরদিঘি। শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা এই দীঘির পরিবেশ রক্ষায় নানা সময়ে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এখনও ভোরের দিকে সাগরদিঘিতে স্নান করতে দেখা যাচ্ছে কয়েক জনকে। তার উপর সন্ধ্যার পর দীঘির পাড়ে বসা ফাস্টফুডের দোকানগুলির বর্জ্য নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
অভিযোগ, ব্যবহৃত থালা-বাটি, প্লাস্টিকের বোতল এবং বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা অনেক সময় দীঘির জলে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ভাবে এই ধরনের বর্জ্য জলে পড়ায় দূষণের মাত্রা বাড়ছে বলে আশঙ্কা পরিবেশপ্রেমীদের। শুধু জলদূষণ নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে দীঘির জলজ প্রাণীদের উপরও।
সম্প্রতি সাগরদিঘিতে একাধিক কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়েছে। কী কারণে কচ্ছপগুলির মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। তবে জল দূষণের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বিশ্ব রাজবংশী উন্নয়ন মঞ্চের সভাপতি পার্থ বর্মনের অভিযোগ, সাগরদিঘিতে স্নান নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাঁর আরও অভিযোগ, দীঘির জলে নিয়মিত প্লাস্টিক এবং অন্যান্য বর্জ্য পড়ছে। এর ফলে জল দূষিত হচ্ছে এবং সেই দূষণের কারণেই হয়তো কচ্ছপগুলির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে কচ্ছপ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাগরদিঘির জলজ পরিবেশ রক্ষায় তাই নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি উঠছে। বিশেষ করে দীঘির পাড়ের খাবারের দোকানগুলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিষেধাজ্ঞা শুধু বোর্ডে আটকে থাকলে যে কাজের কাজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য। সাগরদিঘির পরিবেশ বাঁচাতে নিয়মিত নজরদারি, বর্জ্য ফেলার উপর নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা তিনটিই জরুরি। কারণ এই দীঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, কোচবিহারের ঐতিহ্যেরও অংশ। আর সেই ঐতিহ্যের জলে যদি প্লাস্টিকের আস্তরণ পড়ে, তা শুধু পরিবেশের নয়, শহরের পরিচয়েরও ক্ষতি।





