শীতলকুচি, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তেজনা ছড়াল শীতলকুচির ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েত সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থেকেই পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশি নজরদারিতে কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২১ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে তৃণমূলের ১৮ জন এবং বিজেপির তিন জন সদস্য রয়েছেন। এত দিন পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তৃণমূলের শ্রদ্ধা প্রামাণিক। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই পদে নতুন করে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল বুধবার।
কিন্তু এ দিন নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতির হিসাব নিয়েই তৈরি হয় জটিলতা। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের পাঁচ জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং বিজেপির এক জন সদস্য পঞ্চায়েত অফিসে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের সদস্যদের কী ভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত অফিসে আনা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। তা থেকেই পঞ্চায়েত চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। উত্তেজনা বাড়তে পারে আশঙ্কায় এলাকায় নজরদারিও চালানো হয়। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর চললেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া এগোয়নি।
বোর্ড গঠন না হওয়ায় ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া কেন সম্পূর্ণ হল না, পরবর্তী বৈঠকের দিন কবে ঠিক হবে এবং সেই বৈঠকে সব সদস্যের উপস্থিতি কী ভাবে নিশ্চিত করা হবে এই বিষয়গুলিই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনায়।
একদিকে পঞ্চায়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃণমূলের, অন্য দিকে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সমীকরণও বদলেছে। সেই আবহেই বোর্ড গঠন ঘিরে বারবার তৈরি হচ্ছে জটিলতা। ফলে পরবর্তী নির্দেশ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর ভাঐরথানায়।





