নয়াদিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ এসআইআর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তির ফর্ম ৬-এর পুরনো কাঠামো ফিরিয়ে আনল নির্বাচন কমিশন। বুধবার থেকে ইসিআইনেট পোর্টালে পশ্চিমবঙ্গ-সহ যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শেষ হয়ে গিয়েছে, সেখানে নতুন আবেদনকারীদের আর এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত স্বঘোষণা দিতে হবে না। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আপাতত সরল হল নতুন ভোটারদের নাম তোলার প্রক্রিয়া।
ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তুলতে এত দিন ফর্ম ৬ পূরণ করতে হত। এসআইআর শুরু হওয়ার পর সেই ফর্মেই যুক্ত হয়েছিল অতিরিক্ত কিছু তথ্য। আবেদনকারী নিজে বা তাঁর বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদার নাম আগের এসআইআরের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে হত। অনলাইন ফর্মের নির্দিষ্ট অংশে সেই তথ্য না দিলে আবেদন এগোনোর ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পরিবর্তন নিয়েই প্রকাশ্যে আসে নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের মতপার্থক্য। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী ফর্ম ৬-এ এই পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্মে পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট বিধিতে সংশোধন প্রয়োজন। দু’জন কমিশনারই বিষয়টি নিয়ে নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর পর গত শনিবার নির্বাচন কমিশন একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সেখানে জানানো হয়েছিল, যে সব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে না কিংবা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, সেখানে ১৯৬০ সালের সংশ্লিষ্ট ভোটার আইন অনুযায়ী ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হবে। সেই ঘোষণার পর বুধবার ইসিআইনেটে পুরনো কাঠামোর ফর্মটি দেখা যায়। ফলে ওই সব এলাকায় নতুন ভোটারদের আর এসআইআর-সংক্রান্ত পারিবারিক তথ্য বা অতিরিক্ত স্বঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন থাকছে না।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধীদের একাংশ ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তারা একমত নয়।
ফলে ফর্ম ৬-এর পুরনো কাঠামোয় ফেরার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক থামার বদলে আপাতত নতুন মাত্রা পেল। এক দিকে নতুন ভোটারদের আবেদনপ্রক্রিয়া সরল হল, অন্য দিকে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকল।





