নন্দীগ্রাম,৩০ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। দ্রুত শুনানির আর্জি জানায় রাজ্য। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার, ৫ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আবেদনটি খারিজ করা হবে, তবে তার আগে সোমবার শুনানি হবে।
মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম-সংক্রান্ত ছ’টি মামলায় মিলনকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোট। প্রচার শেষ হওয়ার কথা ৪ অক্টোবর। ফলে হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটের আগে জেলের বাইরে থেকেই প্রচার চালাতে পারবেন কংগ্রেস প্রার্থী। ২১ অক্টোবর তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মিলনকে তাঁর মোবাইল নম্বর তদন্তকারী আধিকারিককে দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ দিনে দু’বার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছ’টি মামলার প্রতিটিতে জামিনের বন্ড জমা দেওয়ার শর্তও রয়েছে।
মিলনকে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানার ২০০৭ সালের পুরনো মামলাগুলিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই মামলাগুলিতে খুন, দাঙ্গা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মামলাগুলি পুরনো হলেও মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।
রাজ্যের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে কোনও অভিযুক্তকে অতিরিক্ত আইনি সুবিধা দেওয়া যায় কি না, সেটিই এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সেই যুক্তিতেই হাই কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে গিয়েছে রাজ্য। অন্য দিকে, হাই কোর্টের নির্দেশে আপাতত ভোটের ময়দানে থাকার সুযোগ পেয়েছেন মিলন। এখন নজর সোমবারের শুনানিতে ভোটের ঠিক এক দিন আগে শীর্ষ আদালতের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে নন্দীগ্রাম।





