কোচবিহার, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ গার্ড ওয়াল তৈরি হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে যাতায়াতের পথ এই আশঙ্কায় নিউ কোচবিহার রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের নির্মাণকাজে বাধা দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে রেলের পক্ষ থেকে গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হতেই আপত্তি জানান এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কোনও রকম আলোচনা না করেই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
স্থানীয়দের দাবি, স্টেশন সংলগ্ন ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসতি রয়েছে। সেই বসতির পাশেই গার্ড ওয়াল তৈরি করা হলে এলাকার একটি অংশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বাইরে বেরোনোর পথ সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
এ দিন নির্মাণকাজ শুরু হলে ঘটনাস্থলে জড়ো হন স্থানীয়রা। তাঁদের একাংশ রেলের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান। বাসিন্দাদের বক্তব্য, গার্ড ওয়াল নির্মাণের প্রয়োজন থাকলে আগে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হোক। কোন পথে এলাকার মানুষ যাতায়াত করবেন, জরুরি পরিস্থিতিতে কী ভাবে অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্যান্য যানবাহন ঢুকবে সেই বিষয়গুলিও আগে নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা না করে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হলে দৈনন্দিন চলাচলে সমস্যায় পড়তে হবে এলাকার বাসিন্দাদের। স্কুল, বাজার কিংবা কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। তাই বিকল্প রাস্তা বা যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরেই নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাসিন্দারা আরও জানান, রেলের জমি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও পরিকল্পনা থাকলে তা নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে সেই পরিকল্পনার ফলে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি তাঁদের। প্রয়োজনে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে রেল পুলিশের কর্মীরা পৌঁছন। এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গার্ড ওয়াল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং স্থানীয়দের যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত বাসিন্দাদের আপত্তির জেরে নির্মাণকাজ ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে, নাকি ফের নির্মাণকাজ শুরু হবে সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।





