সিকিম, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ একই পাহাড়। অথচ ছবি যেন দুই মেরুর। কোথাও বৃষ্টিতে পাহাড় গড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়, কোথাও আবার শরৎ নামার আগেই সাদা বরফের চাদর। এক দিকে ধসের জেরে রাস্তা বন্ধ, ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা। অন্য দিকে সিকিমের উঁচু পাহাড়ে মরসুমের প্রথম তুষারপাত। বৃহস্পতিবার প্রকৃতির এমনই বৈপরীত্যের সাক্ষী থাকল দার্জিলিং ও সিকিম।
গত দু’দিন ধরে পাহাড়ে দফায় দফায় বৃষ্টি। তার জেরেই দার্জিলিংয়ের একাধিক এলাকায় ধস। পুলবাজার ব্লকের সিংতাম এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে পাহাড়ের উপর থেকে মাটি, পাথর, নুড়ি ও গাছ নেমে এসে রাস্তা ঢেকে দেয়। ফলে দার্জিলিং শহরের সঙ্গে সিংতামের যোগাযোগ ব্যাহত হয়। সুখিয়াপোখরির প্লংডুং এলাকাতেও ধসের খবর মিলেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ধসের জায়গাগুলি থেকে মাটি-পাথর সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সিকিমের ‘লাইফলাইন’ NH-10 নিয়ে। বরদাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় নতুন করে ধস নামায় রাস্তার উপর জমে যায় কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ। ব্যাহত হয় রংপো-গ্যাংটক যোগাযোগ। বিকল্প পথে যান চলাচল ঘোরানোর পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলে।
পশ্চিম সিকিমের রিম্বি এলাকাতেও নতুন ধস নেমেছে। মাঙ্গান জেলার প্রশাসনিক আপডেটেও চুংথাং-লাচেন এবং জিরো পয়েন্টগামী কয়েকটি রাস্তায় ধস ও তুষারের কারণে বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি তিস্তাতেও বেড়েছে জল। বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তায় জলস্তর প্রায় ১৪৫ মিটারে পৌঁছয়—বিপদসীমা ১৫০ মিটারের কাছাকাছি। ফলে নদী সংলগ্ন এলাকা ও পাহাড়ি রাস্তার উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আর এই বিপর্যয়ের ছবির পাশেই যেন একেবারে অন্য সিকিম। উত্তর সিকিমের জিরো পয়েন্টে শুরু হয়েছে মরসুমের প্রথম তুষারপাত। ছাঙ্গু বা সোমগো রুটেও বরফ পড়েছে, ITBP ক্যাম্প পর্যন্ত রাস্তার একাংশ সাদা হয়ে গিয়েছে। ফলে পর্যটকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস, আর পর্যটন ব্যবসায়ীদের চোখে নতুন আশার আলো।
তবে বরফ মানেই শুধু উৎসব নয়। জিরো পয়েন্ট-ডংকিয়ালা রোড ইতিমধ্যেই তুষারের কারণে বন্ধ বলে মাঙ্গান জেলা প্রশাসনের রোড স্ট্যাটাসে জানানো হয়েছে। তাই তুষার দেখার টানে পাহাড়ে পাড়ি দেওয়ার আগে রাস্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ জেনে নেওয়াই জরুরি।
আশ্বিনের পাহাড় তাই একসঙ্গে দেখাচ্ছে দু’টি মুখ নীচে ধসের ভয়, উপরে বরফের হাতছানি।





