বিহার, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই কি মতপার্থক্যের আঁচ? বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে প্রকাশ্যে আসা এক রিপোর্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশি অন্তত ১৪ বার কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল, তাঁদের মতামত বা অনুমোদন ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন, ভোটার তালিকার তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকারের নিয়ন্ত্রণ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল এবং গোয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া। দুই কমিশনারের নোটে কয়েকটি পদক্ষেপকে ‘অননুমোদিত’ এবং ‘আইনবহির্ভূত’ বলেও আপত্তি জানানোর কথা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই রিপোর্টের পরই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। কমিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য বা পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এসআইআর-সহ কমিশনের যাবতীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের সম্মতিতেই হয়েছে। অর্থাৎ, নেপথ্যে মতবিনিময় থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনও বিভাজন হয়নি এটাই কমিশনের বক্তব্য।
এই চাপানউতোরের মধ্যেই জোটসঙ্গী লোক জনশক্তি পার্টির নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি জোর দিয়েছেন মানুষের আস্থার উপর। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব, কমিশনকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়ে জনমানসে আস্থা বজায় রাখা।
ফলে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই এখন সামনে আরও বড় প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং সেই প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় কী ভাবে দূর করা হবে? আপাতত সেই জবাবের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটারের।





