অসম, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ কাজির কাছে গিয়ে বিয়ে, অথচ সরকারি নথিতে তার কোনও ছাপ নেই অসমে সেই ব্যবস্থায় এবার কার্যত ইতি। মুসলিম বিবাহের রেজিস্ট্রেশনকে বাধ্যতামূলক করে ২০২৪ সালে আইন পাশ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই আইনের বাস্তব প্রয়োগের জন্য ‘অসম মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন (কমপালসরি) রুলস, ২০২৬’ অনুমোদন করল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।
নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব আর কাজিদের হাতে থাকবে না। সরকার-নিযুক্ত ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররাই সেই দায়িত্ব পালন করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও এলাকায় আবেদনের সংখ্যা বেশি হলে পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিকদেরও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। ফলে বিয়ের নথিভুক্তি আরও স্থানীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
কেন এই বদল? অসম সরকারের অন্যতম যুক্তি, বাল্যবিবাহে রাশ টানা। ২০২৪ সালের আইনে স্পষ্ট করা হয়েছিল—বিয়ের ক্ষেত্রে মহিলার বয়স অন্তত ১৮ এবং পুরুষের ২১ বছর হতে হবে। সেই বয়সসীমা পূরণ না হলে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না। আগের ১৯৩৫ সালের আইনে নাবালক-নাবালিকার বিয়ে নথিভুক্ত করার সুযোগ ছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছিল। নতুন আইনে সেই রাস্তা বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শুধু বিয়ে নয়, বিবাহবিচ্ছেদের রেজিস্ট্রেশনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বিয়ের রেজিস্ট্রেশন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এবং বিবাহবিচ্ছেদের নথিভুক্তিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করতে হবে। ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
এর পিছনে আরও একটি বড় পরিবর্তন রয়েছে। ২০২৪ সালের আইনটি ১৯৩৫ সালের ‘অসম মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’-এর জায়গা নিয়েছে। পুরনো ব্যবস্থায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজিরা বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্ত করতেন। নতুন আইনে সেই কাঠামো সরিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে সামনে আনা হয়েছে।
ফলে অসমে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তিও হয়ে উঠল গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ। সরকারের দাবি, এর ফলে বিয়ের বয়স, পরিচয় এবং বৈবাহিক অবস্থার সরকারি রেকর্ড আরও স্পষ্ট হবে আর বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা চিহ্নিত করাও সহজ হবে।





