কলকাতা, ৬ আগস্ট: সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ছাত্র-আন্দোলনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল নাবালকদের উপস্থিতি ঘিরে। আন্দোলনে ১২ বছর বয়সি শিশুদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে পকসো-সহ প্রাসঙ্গিক আইনে মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জিরো এফআইআর দায়েরের অনুমতি চেয়ে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় নাবালক-নাবালিকাদের এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে আসা হয়েছিল, যেখানে তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর প্রশ্ন, “১২ বছরের বাচ্চাকে প্রতিবাদস্থলে নিয়ে এল কে?” আইনজীবীর দাবি, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার দায়িত্ব প্রাপ্তবয়স্কদেরই। সেই দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শিশু-সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পকসো-সহ প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশ কোনও মামলা দায়ের করেছে কি না বা তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, সংসদ অভিযানের দিন পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত। আন্দোলনকারীদের দাবি, মহিলা বিক্ষোভকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। কয়েক জন আইনজীবীর অভিযোগ, অনেক পুলিশকর্মীর পরিচয়পত্র বা ব্যাজ দৃশ্যমান ছিল না এবং নারী আন্দোলনকারীদের উপর অসংগত বলপ্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। তাঁদের দাবি সমর্থনে একাধিক ভিডিও আদালতে পেশ করার কথাও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের অংশ। তাই কোনও আন্দোলন হলেই বলপ্রয়োগকে স্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায় না। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংযম এবং আইনসম্মত পদক্ষেপের উপরই জোর দিয়েছে আদালত।
এখন আইনজীবীর এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করে, তা-ই দেখার। একই সঙ্গে শিশুদের আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে আইনি ও নৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।





