খবরিয়া ২৪ দেস্ক, ২১ জুলাইঃ কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি শিল্পী, নেতা নই।’’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। আর এ বার সেই দিলজিৎ দোসাঞ্জই সরাসরি কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব। দিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের কাছে আবেদন জানালেন আন্দোলনকারীদের কথা শোনার। একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে বললেন, ‘‘নিন, এ বার আমাকেও দেশদ্রোহী বলুন।’’
নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। সেই আবহেই মুখ খুলেছেন পাঞ্জাবি গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ।
আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত অন্যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ হওয়া উচিত হয়নি। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, তাঁদের দাবিদাওয়াগুলি শুনুন। কারণ, জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।’’
এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দিন কুড়ি আগেই একই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নিজেকে রাজনীতির বাইরে রাখার কথা বলেছিলেন দিলজিৎ। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও ছড়িয়েছিল। এ বার সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান নিয়ে তিনি কার্যত কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে আগেও বহু বার দেশদ্রোহী বলা হয়েছে। কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলার জন্য আইনি জটিলতায় পড়েছিলাম। অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। এ বারও হয়তো একই কথা বলা হবে।’’ তবে সে সব নিয়ে তিনি বিচলিত নন বলেই ইঙ্গিত দিয়ে যোগ করেন, ‘‘ঈশ্বর সব দেখছেন। আমি চাই, তিনি সকলের মঙ্গল করুন।’’
দিলজিতের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের একাংশ তাঁর অবস্থানকে সাহসী বলে প্রশংসা করছেন। আবার সমালোচকদের দাবি, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর অবস্থানের এই বদল নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সংসদ অভিযান ঘিরে রাজধানীর উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে দিলজিতের এই মন্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।





