কলকাতা, ১৩ জুনঃ কলকাতার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে শালবনি থানার পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছয়। অভিযানে কালীঘাট থানার পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের মহিলা কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তে সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছে। জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জেরা করার সময় তাঁর নাম সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশপাশে পাওয়া গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই শালবনি থেকে বিশেষ দল কলকাতায় পৌঁছে তল্লাশি চালায়।
অভিযান চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি তদন্তকারী সংস্থা নই, তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিও নই। ওনারা সার্চ করে গিয়েছেন, ওনারাই জবাব দেবেন। আমার পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে তল্লাশির খবর পেয়ে সকালে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগের দিনই বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে সিআইডির মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি ভবানী ভবন থেকে বের হন। আগামী রবিবারও তাঁকে পুনরায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারই মধ্যে তাঁর বাড়িতে পুলিশের এই তল্লাশি অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





