কোচবিহার, ৮ ডিসেম্বরঃ দু’দিনের সরকারি সফরে সোমবার কোচবিহারে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরে এবিএন শীল কলেজের মাঠে নামে তাঁর হেলিকপ্টার। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে রবীন্দ্রভবনের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজ চত্বর ও রবীন্দ্রভবন দুই জায়গাতেই ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় জেলার অন্যতম বড় প্রশাসনিক বৈঠক।
এদিনের বৈঠকের প্রধান আকর্ষণ ছিল উত্তরবঙ্গের আট জেলার জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস। মোট ২৬১টি প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী, যার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৪৪ কোটি টাকা। পরিকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, জল সরবরাহ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভিন্ন ক্ষেত্রজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই প্রকল্পগুলি।
মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় সরকারি পরিষেবার নথি। রূপশ্রী প্রকল্প, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন অনুদান সব মিলিয়ে সোমবারের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছিল যথেষ্ট উৎসাহ।
উপভোক্তাদের হাতে নতুন পরিষেবা তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উন্নয়নের কাজে উত্তরবঙ্গকে সর্বদা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার বিভিন্ন দফতরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বিশেষত কৃষি, পঞ্চায়েত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি কড়া নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কোচবিহার জুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। হেলিপ্যাড থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে মোতায়েন ছিল পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বাংলোবাড়ি এলাকা জুড়ে লাগানো হয় সিসিটিভি। অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সূত্রের খবর, প্রশাসনিক বৈঠক শেষে আজ রাতে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর জন্য আলাদা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা যায়, রাতে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পারেন তিনি। আসন্ন সংগঠন গঠন, জেলা কমিটির পুনর্গঠন এবং আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও হতে পারে।
আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জনসভার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও কোচবিহারে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





