খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষিত প্রাথমিকের টেট দুর্নীতি মামলা নিয়ে অবশেষে রায়দান করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকছে। এই রায়ের ফলে বিশাল স্বস্তি পেলেন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
২০২৩ সালের ১২ মে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন, তা-ই এদিন খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। আগের রায়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল একক বেঞ্চ। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য।
বুধবার রায় দিতে গিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, নয় বছর পর একসঙ্গে এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় “বিপর্যয়” নেমে আসতে পারে। আদালতের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি থাকলেও বৃহত্তর জনস্বার্থ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়।
২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়, তার মাধ্যমে প্রায় ৪২,৯৪৯ জন শিক্ষক চাকরি পান। পরে নিয়োগে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও নানা ‘ক্রুটি’র অভিযোগ তুলে একাধিক মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। সেই মামলার ভিত্তিতেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার নিয়োগকে বাতিল করেছিলেন।
এরই মধ্যে রাজ্য সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আনে। কয়েক মাস ধরে মামলার শুনানি চলে এবং গত ১২ নভেম্বর শুনানি পর্ব শেষ হয়। অবশেষে বুধবার প্রকাশিত হল বহু প্রতীক্ষিত রায়।
হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তির হাওয়া প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে। তবে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আইনমহল ও রাজনৈতিক মহল এখনই নজর রাখছে।





