খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের বেঞ্চ জানিয়ে দেয় সিঙ্গল বেঞ্চের পূর্ববর্তী রায় কার্যকর নয়, ফলে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ বহাল থাকবে।
রায় প্রকাশের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি লেখেন, “প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সুরক্ষিত রইল। সত্যের জয় হল।”
আদালত এদিন স্পষ্ট জানায়, নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সেই ভিত্তিতে হাজার হাজার চুক্তিবদ্ধ শিক্ষককে একসঙ্গে চাকরিচ্যুত করা যায় না। দীর্ঘ ৯ বছর পরে চাকরি ছিনিয়ে নেওয়া হলে তাঁদের পরিবারসহ সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়বে। দুর্নীতির তদন্ত চলবে, তবে তার দায় সবার উপর চাপানো যায় না এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
২০২৩ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় একসঙ্গে ৩২ হাজার প্রাথমিকে নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন, তবে রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চ চাকরি বাতিলের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও নতুন নিয়োগ শুরুর নির্দেশ বহাল রাখে।
এরপর সিঙ্গল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চ দুই রায়ের বিরুদ্ধেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, রাজ্য সরকার এবং চাকরিহারাদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সুপ্রিম কোর্ট সকল পক্ষের বক্তব্য শুনে মামলাটি হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের বেঞ্চে ১২ নভেম্বর শুনানি শেষ হয়। বুধবার প্রকাশিত রায়ে ৩২ হাজার শিক্ষক ফের পেলেন স্থায়ী স্বস্তি।





